১০২টি হাদীস
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا جَاءَ الْمَسْجِدَ - وَقَدْ صَلَّى النَّاسُ - بَدَأَ بِصَلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ وَلَمْ يُصَلِّ قَبْلَهَا شَيْئًا .
রেওয়ায়ত ৭৫. রবী’আ ইবন আবূ আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, লোকজন নামায সমাপ্ত করিয়াছেন, এই অবস্থায় আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) মসজিদে পৌছিলে তিনি ফরয নামায আরম্ভ করিতেন এবং উহার পূর্বে অন্য কোন নামায পড়িতেন না।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، مَرَّ عَلَى رَجُلٍ وَهُوَ يُصَلِّي فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَرَدَّ الرَّجُلُ كَلاَمًا فَرَجَعَ إِلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَقَالَ لَهُ إِذَا سُلِّمَ عَلَى أَحَدِكُمْ وَهُوَ يُصَلِّي فَلاَ يَتَكَلَّمْ وَلْيُشِرْ بِيَدِهِ .
রেওয়ায়ত ৭৬. নাফি (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) একবার এক ব্যক্তির নিকট দিয়া যাইতেছিলেন। সেই ব্যক্তি নামায পড়িতেছিল। তিনি সেই ব্যক্তিকে সালাম করিলেন। সেই ব্যক্তি وعليكم السلام ورحمة الله বাক্য দ্বারা সালামের উত্তর দিলেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাহার নিকট প্রত্যাগমন করিয়া বলিলেনঃ নামাযরত অবস্থায় যদি তোমাদের কাহাকেও সালাম করা হয়, তবে সে সালাম করিবে না বরং হাতের ইশারায় উত্তর দিবে।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقُولُ مَنْ نَسِيَ صَلاَةً فَلَمْ يَذْكُرْهَا إِلاَّ وَهُوَ مَعَ الإِمَامِ فَإِذَا سَلَّمَ الإِمَامُ فَلْيُصَلِّ الصَّلاَةَ الَّتِي نَسِيَ ثُمَّ لِيُصَلِّ بَعْدَهَا الأُخْرَى .
রেওয়ায়ত ৭৭. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলতেন, যে ব্যক্তি কোন নামায ভুলিয়া যায়, তারপর সেই নামাযের কথা আর স্মরণ হয় নাই, কিন্তু স্মরণ হইয়াছে এমন সময় যখন ইমামের সাথে, তবে ইমাম সালাম ফিরাইলে পর সে (প্রথমে) যে নামায ভুলিয়াছে উহা পড়িয়া লইবে, তারপর অন্য নামায (যাহা ইমামের সহিত পড়িয়াছিল) পড়িবে।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَمِّهِ، وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ، أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ أُصَلِّي وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ مُسْنِدٌ ظَهْرَهُ إِلَى جِدَارِ الْقِبْلَةِ فَلَمَّا قَضَيْتُ صَلاَتِي انْصَرَفْتُ إِلَيْهِ مِنْ قِبَلِ شِقِّي الأَيْسَرِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَنْصَرِفَ عَنْ يَمِينِكَ قَالَ فَقُلْتُ رَأَيْتُكَ فَانْصَرَفْتُ إِلَيْكَ . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَإِنَّكَ قَدْ أَصَبْتَ إِنَّ قَائِلاً يَقُولُ انْصَرِفْ عَنْ يَمِينِكَ فَإِذَا كُنْتَ تُصَلِّي فَانْصَرِفْ حَيْثُ شِئْتَ إِنْ شِئْتَ عَنْ يَمِينِكَ وَإِنْ شِئْتَ عَنْ يَسَارِكَ .
রেওয়ায়ত ৭৮. ওয়াসি ইবন হারবান (রহঃ) বলেনঃ আমি নামায পড়িতেছিলাম, তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) কিবলার প্রাচীরের সহিত পিঠ লাগাইয়া বসা ছিলেন। আমি নামায সমাপ্ত করার পর তাহার নিকট গেলাম, আমার বাম দিকে ফিরিয়া। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেনঃ তোমাকে ডানদিক হইয়া ফিরিতে কিসে বাধা দিল? ওয়াসি’ (রহঃ) উত্তরে বলিলেনঃ আমি আপনাকে আমার বাম দিকে বসা দেখিয়া আপনার দিকে ফিরিলাম। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলিলেনঃ তুমি ঠিক করিয়াছ। হয়ত এক ব্যক্তি বলিবেঃ তুমি ডান দিক হইয়া ফির। অতঃপর তুমি যখন নামায পড়, যেদিক দিয়া তোমার ইচ্ছা হয় সেইদিক দিয়া ফিরিও, ডানদিক দিয়া হউক বা বামদিক দিয়া।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَجُلٍ، مِنَ الْمُهَاجِرِينَ لَمْ يَرَ بِهِ بَأْسًا أَنَّهُ سَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَأُصَلِّي فِي عَطَنِ الإِبِلِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ لاَ وَلَكِنْ صَلِّ فِي مُرَاحِ الْغَنَمِ .
রেওয়ায়ত ৭৯. জনৈক মুহাজির আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলেনঃ আমি উটের বিশ্রামাগারে (যাহা সাধারণত পানির নিকট হয়) নামায পড়িতে পারি কি? তিনি বলিলেন, না, তবে ছাগলের বসার স্থানে নামায পড়িতে পার।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ قَالَ مَا صَلاَةٌ يُجْلَسُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ مِنْهَا ثُمَّ قَالَ سَعِيدٌ هِيَ الْمَغْرِبُ إِذَا فَاتَتْكَ مِنْهَا رَكْعَةٌ وَكَذَلِكَ سُنَّةُ الصَّلاَةِ كُلُّهَا .
রেওয়ায়ত ৮০. ইবন শিহাব (রহঃ) বলেন- সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিয়াছেনঃ কোন নামায এরূপ যাহার প্রতি রাকাআতে বসিতে হয়? অতঃপর (উত্তরে) সাঈদ বলিলেনঃ উহা মাগরিবের নামায, যখন তোমার উহা হইতে এক রাকাআত ছুটিয়া যায় অর্থাৎ ইমামের সঙ্গে এক রাকাআত না পাইলে তাহাকে সেই রাক’আত আদায় করিতে হইবে, তখন প্রতি রাকাআতেই বসিতে হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সব নামাযেই এইরূপ নিয়ম।
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ، . أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي وَهُوَ حَامِلٌ أُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلأَبِي الْعَاصِ بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ شَمْسٍ فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا وَإِذَا قَامَ حَمَلَهَا .
রেওয়ায়ত ৮১. আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার কন্যা যয়নব (রাঃ)-এর মেয়ে উমামাকে উঠাইয়া নামায পড়িতেন। উমামার পিতা হইতেছেন আবুল আস ইবন রবিআ ইবন আবদ শামস। হযরত গ্ৰ সিজদা করার সময় তাহাকে রাখিয়া দিতেন, আবার উঠার সময় তাহাকে উঠাইয়া নিতেন।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلاَئِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلاَئِكَةٌ بِالنَّهَارِ وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلاَةِ الْعَصْرِ وَصَلاَةِ الْفَجْرِ ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ فَيَسْأَلُهُمْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِمْ كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي فَيَقُولُونَ تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ " .
রেওয়ায়ত ৮২. আবূ হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের মধ্যে ফেরেশতাগণ পালাবদল করিয়া আসা-যাওয়া করেন। একদল ফেরেশতা রাত্রে এবং আর একদল দিনে, আর আসর ও ফজরের নামাযে তাহারা একত্র হন। অতঃপর যাহারা রাত্রে তোমাদের মধ্যে ছিলেন, তাহারা উর্ধ্বলোকে চলিয়া যান। আল্লাহ্ তা'আলা আপন বান্দাদের অবস্থা অধিক জ্ঞাত, তবুও তিনি ফেরেশতাগণকে প্রশ্ন করেনঃ তোমরা আমার বান্দাগণকে কি অবস্থায় রাখিয়া আসিয়াছ? উত্তরে ফেরেশতাগণ বলেন, আমরা তাহাদিগকে নামাযরত অবস্থায় রাখিয়া আসিয়াছি এবং আমরা যখন তাঁহাদের নিকট গমন করিয়াছিলাম তখনও তাহারা নামাযে রত ছিলেন।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ لِلنَّاسِ " . فَقَالَتْ عَائِشَةُ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَا قَامَ فِي مَقَامِكَ لَمْ يُسْمِعِ النَّاسَ مِنَ الْبُكَاءِ فَمُرْ عُمَرَ فَلِيُصَلِّيَ لِلنَّاسِ . قَالَ " مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ لِلنَّاسِ " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ لِحَفْصَةَ قُولِي لَهُ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ إِذَا قَامَ فِي مَقَامِكَ لَمْ يُسْمِعِ النَّاسَ مِنَ الْبُكَاءِ فَمُرْ عُمَرَ فَلْيُصَلِّ لِلنَّاسِ فَفَعَلَتْ حَفْصَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّكُنَّ لأَنْتُنَّ صَوَاحِبُ يُوسُفَ مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ لِلنَّاسِ " . فَقَالَتْ حَفْصَةُ لِعَائِشَةَ مَا كُنْتُ لأُصِيبَ مِنْكِ خَيْرًا .
রেওয়ায়ত ৮৩. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আবু বকরকে বলিয়া দাও, তিনি যেন লোকের ইমামতি করেন। তখন আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আবু বকর আপনার স্থানে দাঁড়াইলে কান্নার জন্য লোকে তাহার আওয়াযই শুনিতে পাইবে না। কাজেই আপনি লোকের ইমামতি করার জন্য উমর (রাঃ)-কে নির্দেশ প্রদান করুন। তিনি বলিলেনঃ আবু বকরকে বলিয়া দাও তিনি যেন লোকের ইমামতি করেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, তখন আমি হাফসাকে বলিলাম তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বল, আবু বকর (রাঃ) যখন আপনার স্থানে দাঁড়াইবেন, কান্নার জন্য লোকে তাহার আওয়ায শুনিতে পাইবে না, কাজেই লোকের ইমামতি করার জন্য উমর (রাঃ)-কে বলুন। হাফসা (রাঃ) উহা করিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার উত্তরে বলিলেনঃ তোমরা অবশ্যই ইউসুফ (আঃ)-এর সঙ্গিনী নারীদের মত। আবু বকরকেই বলিয়া দাও, তিনি যেন লোকের ইমামতি করেন। (এই উত্তর শুনিয়া) হাফসা (রাঃ) আয়েশা (রাঃ)-কে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেনঃ আমি তোমার নিকট হইতে কোন মঙ্গল লাভ করি নাই।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارِ، أَنَّهُ قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ بَيْنَ ظَهْرَانَىِ النَّاسِ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَسَارَّهُ فَلَمْ يُدْرَ مَا سَارَّهُ بِهِ حَتَّى جَهَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا هُوَ يَسْتَأْذِنُهُ فِي قَتْلِ رَجُلٍ مِنَ الْمُنَافِقِينَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ جَهَرَ " أَلَيْسَ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ " . فَقَالَ الرَّجُلُ بَلَى وَلاَ شَهَادَةَ لَهُ . فَقَالَ " أَلَيْسَ يُصَلِّي " . قَالَ بَلَى وَلاَ صَلاَةَ لَهُ . فَقَالَ صلى الله عليه وسلم " أُولَئِكَ الَّذِينَ نَهَانِي اللَّهُ عَنْهُمْ " .
রেওয়ায়ত ৮৪. উবায়দুল্লাহ ইবন আদী ইবন খিয়ার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকের (সাহাবীগণের) মধ্যে বিরাজমান ছিলেন। এমন সময় একজন লোক তাহার খিদমতে উপস্থিত হইলেন এবং তাহার সহিত চুপে চুপে কথা বললেন। সেই ব্যক্তি চুপে চুপে কি যে বললেন তাহা আমরা জানিতে পারিলাম না। ইতিমধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু উচ্চস্বরে আলাপ করিতে আরম্ভ করিলেন, তখন আমরা জানিতে পারিলাম যে উক্ত ব্যক্তি মুনাফিকদের মধ্য হইতে জনৈক মুনাফিককে কতল করার অনুমতি প্রার্থনা করিতেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু জোরে কথা বলিতে আরম্ভ করিলেন এবং আগন্তুককে প্রশ্ন করিলেনঃ সেই মুনাফিক ব্যক্তিটি কি এই কথার সাক্ষ্য দেয় নাই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নাই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত রাসূল? সেই ব্যক্তি বললেনঃ হ্যাঁ, কিন্তু তাহার শাহাদত বিশ্বাসযোগ্য নহে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইলেনঃ সে কি নামায পড়ে না? আগন্তুক বললেনঃ হ্যাঁ, তবে তাহার নামায নির্ভরযোগ্য নহে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ ইহারাই সেই লোক, যাহাদের (হত্যা করা) হইতে আল্লাহ আমাকে বিরত রাখিয়াছেন।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اللَّهُمَّ لاَ تَجْعَلْ قَبْرِي وَثَنًا يُعْبَدُ اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عَلَى قَوْمٍ اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ " .
রেওয়ায়ত ৮৫. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ হে আল্লাহ্! আমার কবরকে পূজ্য মূর্তি বানাইও না। সেই সম্প্রদায়ের উপর আল্লাহর ক্ষোভ প্রবল হইয়াছে, যে সম্প্রদায় তাহাদের নবীগণের কবরকে মসজিদ বা সিজদার জায়গা বানাইয়া লইয়াছে।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّ عِتْبَانَ بْنَ مَالِكٍ، كَانَ يَؤُمُّ قَوْمَهُ وَهُوَ أَعْمَى وَأَنَّهُ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّهَا تَكُونُ الظُّلْمَةُ وَالْمَطَرُ وَالسَّيْلُ وَأَنَا رَجُلٌ ضَرِيرُ الْبَصَرِ فَصَلِّ يَا رَسُولَ اللَّهِ فِي بَيْتِي مَكَانًا أَتَّخِذْهُ مُصَلًّى . فَجَاءَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَيْنَ تُحِبُّ أَنْ أُصَلِّيَ " . فَأَشَارَ لَهُ إِلَى مَكَانٍ مِنَ الْبَيْتِ فَصَلَّى فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
রেওয়ায়ত ৮৬. মাহমুদ ইবন লবীদ আনসারী (রহঃ) বলেনঃ উতবান ইবন মালিক (রাঃ) আপন সম্প্রদায়ের লোকদের ইমামতি করিতেন, তিনি ছিলেন অন্ধ। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আরজ করিলেনঃ আমাকে অনেক সময় অন্ধকার, বৃষ্টি ও স্রোতের সম্মুখীন হইতে হয়, আর আমি হইলাম দুর্বল দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন লোক, তাই হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার গৃহের কোন স্থানে নামায পড়ুন, আমি উহাকে নামাযের স্থান নির্ধারণ করিব। তাহার আবেদন রক্ষার্থে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার গৃহে পদার্পণ করিলেন এবং জিজ্ঞাসা করিলেন, কোন স্থানে নামায পড়া তুমি পছন্দ কর। তিনি ইশারায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি নির্দিষ্ট স্থান তাহার গৃহ হইতে দেখাইলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই স্থানে নামায পড়িলেন।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَمِّهِ، أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُسْتَلْقِيًا فِي الْمَسْجِدِ وَاضِعًا إِحْدَى رِجْلَيْهِ عَلَى الأُخْرَى .
রেওয়ায়ত ৮৭. আব্বাদ ইবন তামীম (রহঃ) তাহার চাচা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মসজিদে চিৎ হইয়া শায়িত দেখিয়াছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক পা অপর পায়ের উপর রাখিয়াছিলেন। সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলেনঃ উমর ইবন খাত্তাব ও উসমান ইবন আফফান (রাঃ) উভয়ে অনুরূপ করিতেন।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، وَعُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، - رضى الله عنهما - كَانَا يَفْعَلاَنِ ذَلِكَ .
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، قَالَ لإِنْسَانٍ إِنَّكَ فِي زَمَانٍ كَثِيرٌ فُقَهَاؤُهُ قَلِيلٌ قُرَّاؤُهُ تُحْفَظُ فِيهِ حُدُودُ الْقُرْآنِ وَتُضَيَّعُ حُرُوفُهُ قَلِيلٌ مَنْ يَسْأَلُ كَثِيرٌ مَنْ يُعْطِي يُطِيلُونَ فِيهِ الصَّلاَةَ وَيَقْصُرُونَ الْخُطْبَةَ يُبَدُّونَ أَعْمَالَهُمْ قَبْلَ أَهْوَائِهِمْ وَسَيَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ قَلِيلٌ فُقَهَاؤُهُ كَثِيرٌ قُرَّاؤُهُ يُحْفَظُ فِيهِ حُرُوفُ الْقُرْآنِ وَتُضَيَّعُ حُدُودُهُ كَثِيرٌ مَنْ يَسْأَلُ قَلِيلٌ مَنْ يُعْطِي يُطِيلُونَ فِيهِ الْخُطْبَةَ وَيَقْصُرُونَ الصَّلاَةَ يُبَدُّونَ فِيهِ أَهْوَاءَهُمْ قَبْلَ أَعْمَالِهِمْ .
রেওয়ায়ত ৮৮. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রাঃ) জনৈক ব্যক্তিকে সম্বোধন করিয়া বলিয়াছেনঃ তুমি এমন এক যুগে বাস করিতেছ, যে যুগে ধর্মীয় বিষয়ে বিজ্ঞ অনেক আলিম রহিয়াছেন, কারী আছেন কম (অর্থাৎ আমল ও জ্ঞান ছাড়া কেবল কুরআন পাঠকারীদের সংখ্যা অতি অল্প)। এই যুগে কুরআনের আদেশ নিষেধ প্রভৃতি হিফাযত করা হয়, শব্দের দিকে মনোযোগ দেওয়া হয় কম, ভিক্ষুকের সংখ্যা কম, দাতার সংখ্যা বেশি, নামায পড়েন দীর্ঘ আর খুতবা পাঠ করেন ছোট। সে যুগে প্রবৃত্তি বা খাহেশাতের তাবেদারীর পূর্বে তাহারা আমল আরম্ভ করিয়া দেন। অদূর ভবিষ্যতে মানুষের উপর এমন এক যুগ আসিবে, সে যুগে ফুকাহা (বিজ্ঞ) উলামা হইবেন অল্প। কারিগণ হইবেন অনেক, কুরআনের শব্দসমূহের হিফাযত করা হইবে, অপরদিকে আহকামে কুরআনকে বরবাদ করা হইবে (আমলের প্রতি নযর দিবে কম)। سائل বা ভিক্ষুক হইবে অনেক, দাতার সংখ্যা হইবে অল্প। খুতবা লম্বা প্রদান করিবে আর নামায পড়িবে মুখতাসার, আমলের নয়, খাহেশাত বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করা হইবে।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ أَوَّلَ، مَا يُنْظَرُ فِيهِ مِنْ عَمَلِ الْعَبْدِ الصَّلاَةُ فَإِنْ قُبِلَتْ مِنْهُ نُظِرَ فِيمَا بَقِيَ مِنْ عَمَلِهِ وَإِنْ لَمْ تُقْبَلْ مِنْهُ لَمْ يُنْظَرْ فِي شَىْءٍ مِنْ عَمَلِهِ .
রেওয়ায়ত ৮৯. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, বান্দার আমল হইতে সর্বপ্রথম যে আমলের প্রতি নযর করা হইবে, উহা হইতেছে নামায, অতঃপর তাহার নামায যদি কবুল করা হয়, তবে অন্যান্য আমলের প্রতি নযর দেয়া হইবে। আর যদি নামায তাহার গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে তাহার আমলের কোন কিছুর প্রতি নযর দেওয়া হইবে না।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ أَحَبُّ الْعَمَلِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي يَدُومُ عَلَيْهِ صَاحِبُهُ .
রেওয়ায়ত ৯০. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট সেই আমল ছিল সর্বাধিক প্রিয়, যে আমল উহার সম্পাদনকারী সর্বদা সম্পাদন করিয়া থাকে।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ كَانَ رَجُلاَنِ أَخَوَانِ فَهَلَكَ أَحَدُهُمَا قَبْلَ صَاحِبِهِ بِأَرْبَعِينَ لَيْلَةً فَذُكِرَتْ فَضِيلَةُ الأَوَّلِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَلَمْ يَكُنِ الآخَرُ مُسْلِمًا " . قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَانَ لاَ بَأْسَ بِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَمَا يُدْرِيكُمْ مَا بَلَغَتْ بِهِ صَلاَتُهُ إِنَّمَا مَثَلُ الصَّلاَةِ كَمَثَلِ نَهْرٍ غَمْرٍ عَذْبٍ بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَقْتَحِمُ فِيهِ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ فَمَا تَرَوْنَ ذَلِكَ يُبْقِي مِنْ دَرَنِهِ فَإِنَّكُمْ لاَ تَدْرُونَ مَا بَلَغَتْ بِهِ صَلاَتُهُ " .
রেওয়ায়ত ৯১. সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেনঃ দুইজন লোক পরস্পর ভাই ভাই, (ঘটনাক্রমে) তাঁহাদের মধ্যে এক ভাই মৃত্যুবরণ করেন অপর ভাইয়ের চল্লিশ রাত্রি পূর্বে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমীপে প্রথম (মৃত্যুবরণকারী) ভাইয়ের ফযীলত আলোচিত হয়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ দ্বিতীয় ভাই কি মুসলিম ছিলেন না? (উপস্থিত) সাহাবীগণ বলিলেনঃ হ্যা (তিনিও মুসলিম ছিলেন), ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আর তিনি মন্দলোক ছিলেন না। (ইহা শ্রবণ করার পর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তোমরা জান না, তাহার নামায তাহাকে কোন স্তরে পৌছাইয়াছে। অবশ্য নামাযের দৃষ্টান্ত হইল তোমাদের একজনের দ্বারে অবস্থিত গভীর, পরিপূর্ণ সুমিষ্ট পানির নহরের মত। উক্ত নহরে দৈনিক পাঁচবার যে অবগাহন করে ইহাতে তোমার কি ধারণা, তাহার দেহে কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকিবে? অবশ্য তোমরা জান না যে, তাহার নামায তাহাকে মর্যাদার কোন স্তরে নিয়া পৌছাইয়াছে।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ، كَانَ إِذَا مَرَّ عَلَيْهِ بَعْضُ مَنْ يَبِيعُ فِي الْمَسْجِدِ دَعَاهُ فَسَأَلَهُ مَا مَعَكَ وَمَا تُرِيدُ فَإِنْ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ يُرِيدُ أَنْ يَبِيعَهُ قَالَ عَلَيْكَ بِسُوقِ الدُّنْيَا وَإِنَّمَا هَذَا سُوقُ الآخِرَةِ .
রেওয়ায়ত ৯২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ)-এর (অভ্যাস ছিল) মসজিদে ক্রয়-বিক্রয়কারী কোন ব্যাক্তি তাহার নিকট দিয়া গমন করিলে সেই ব্যক্তিকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিতেনঃ তোমার সঙ্গে কি এবং তোমার উদ্দেশ্য কি? যদি সে তাহার নিকট বলিত যে, সে উহা বিক্রয় করিতে চায়, তবে তিনি বলিতেনঃ তুমি দুনিয়ার বাজারে গমন কর, কারণ এইটি হইল আখিরাতের বাজার।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، بَنَى رَحْبَةً فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ تُسَمَّى الْبُطَيْحَاءَ وَقَالَ مَنْ كَانَ يُرِيدُ أَنْ يَلْغَطَ أَوْ يُنْشِدَ شِعْرًا أَوْ يَرْفَعَ صَوْتَهُ فَلْيَخْرُجْ إِلَى هَذِهِ الرَّحْبَةِ .
রেওয়ায়ত ৯৩. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) মসজিদের পার্শ্বে একটি চত্বর তৈয়ার করিয়াছিলেন, যাহাকে বলা হইত বুতায়হা (بطيحاء)। তিনি ঘোষণা করিয়া দিয়াছিলেন, যে ব্যক্তি অনর্থক কথা বলিতে অথবা কবিতা আবৃত্তি করিতে অথবা উচ্চস্বরে কথা বলিতে চায়, সে যেন সেই চত্বরে চলিয়া যায়।
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ طَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ، يَقُولُ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ ثَائِرُ الرَّأْسِ يُسْمَعُ دَوِيُّ صَوْتِهِ وَلاَ نَفْقَهُ مَا يَقُولُ حَتَّى دَنَا فَإِذَا هُوَ يَسْأَلُ عَنِ الإِسْلاَمِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَمْسُ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ " . قَالَ هَلْ عَلَىَّ غَيْرُهُنَّ قَالَ " لاَ إِلاَّ أَنْ تَطَّوَّعَ " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَصِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ " . قَالَ هَلْ عَلَىَّ غَيْرُهُ قَالَ " لاَ إِلاَّ أَنْ تَطَّوَّعَ " . قَالَ وَذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الزَّكَاةَ . فَقَالَ هَلْ عَلَىَّ غَيْرُهَا قَالَ " لاَ إِلاَّ أَنْ تَطَّوَّعَ " . قَالَ فَأَدْبَرَ الرَّجُلُ وَهُوَ يَقُولُ وَاللَّهِ لاَ أَزِيدُ عَلَى هَذَا وَلاَ أَنْقُصُ مِنْهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْلَحَ الرَّجُلُ إِنْ صَدَقَ " .
রেওয়ায়ত ৯৪. তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, একজন নযদবাসী লোক এলোমেলো কেশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসিলেন। আমরা তাহার স্বরের গুঞ্জন শুনিতেছিলাম। কিন্তু তিনি কি বলিতেছিলেন তাহা বুঝা যাইতেছিল না। আবশেষে তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অতি নিকটে আসিলেন। তখন তিনি ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করিতেছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাহার প্রশ্নের উত্তরে) বলিলেনঃ দিন-রাতে পাঁচবার নামায। সে বলিলঃ ইহা ছাড়া আমার উপর আর কোন কিছু (নামায) আছে কি? তিনি বলিলেনঃ না, অবশ্য তুমি যদি স্বেচ্ছায় (নফল) পড়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ এবং রমযান মাসের রোযা। সে বলিলঃ ইহা ছাড়া আমার উপর (আর কোন রোযা) আছে কি? তিনি বলিলেনঃ না, অবশ্য তুমি যদি স্বেচ্ছায় রাখ। তালহা (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাতের উল্লেখ করিয়াছেন। সেই ব্যক্তি বলিলঃ ইহা ছাড়া আমার উপর আর কোন কিছু আছে কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ না, তবে যদি তুমি নফলরূপে দাও। তালহা (রাঃ) বলেনঃ অতঃপর সেই ব্যক্তি এই বলিতে বলিতে ফিরিয়া গেলঃ কসম আল্লাহর আমি ইহার উপর বেশিও করিব না এবং ইহা হইতে কমও করিব না। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ এই ব্যক্তি সফলকাম হইল, যদি সে সত্য বলিয়া থাকে।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلاَثَ عُقَدٍ يَضْرِبُ مَكَانَ كُلِّ عُقْدَةٍ عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدْ فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَإِنْ تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقَدُهُ فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ وَإِلاَّ أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلاَنَ " .
রেওয়ায়ত ৯৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের একজন যখন ঘুমায়, তখন শয়তান তাহার ঘাড়ে তিনটি গিট লাগায়। প্রতিটি গিটের স্থলে সে এই বলিয়া মন্ত্রণা দেয় তোমার জন্য দীর্ঘ রাত্রি রহিয়াছে, তাই ঘুমাইতে থাক। যদি সে ব্যক্তি জাগ্রত হয় এবং আল্লাহকে স্মরণ করে, তবে একটি গিট খুলিয়া যায়, অতঃপর সে যদি ওযু করে তবে আর একটি গিট খুলিয়া যায়, তারপর সে যদি নামায পড়ে আর একটি গিট খুলিয়া যায়, ফলে সে প্রভাত করে উৎফুল্ল ও কলুষমুক্ত আত্মা লইয়া। অন্যথায় সে প্রভাত করে কলুষিত আত্মা লইয়া অলসতা সহকারে।