১১১টি হাদীস
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، وَذَكَرَ، آخَرَ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلاَنِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنْ غَازِيَةٍ تَغْزُو فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُصِيبُونَ غَنِيمَةً إِلاَّ تَعَجَّلُوا ثُلُثَىْ أَجْرِهِمْ مِنَ الآخِرَةِ وَيَبْقَى لَهُمُ الثُّلُثُ فَإِنْ لَمْ يُصِيبُوا غَنِيمَةً تَمَّ لَهُمْ أَجْرُهُمْ " .
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইয়াযিদ (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ যে বাহিনী আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে, আর তারা গনীমত প্রাপ্ত হয়, তাদেরকে সওয়াবের দুই তৃতীয়াংশ দুনিয়াতেই দেওয়া হয়, আর তাদের এক তৃতীয়াংশ পুণ্য অবশিষ্ট থাকে। আর যে বাহিনী গনীমত না পায়, তাদের বিনিময় পরিপূর্ণই আখিরাতের জন্য থাকে।
أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيمَا يَحْكِيهِ عَنْ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ " أَيُّمَا عَبْدٍ مِنْ عِبَادِي خَرَجَ مُجَاهِدًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِي ضَمِنْتُ لَهُ أَنْ أَرْجَعَهُ إِنْ أَرْجَعْتُهُ بِمَا أَصَابَ مِنْ أَجْرٍ أَوْ غَنِيمَةٍ وَإِنْ قَبَضْتُهُ غَفَرْتُ لَهُ وَرَحِمْتُهُ " .
ইবরাহীম ইন ইয়াকূব (রহঃ) ... ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, যা তিনি তাঁর রব থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমার যে বান্দা আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে বের হয়েছে; আমার জিম্মায় রইলো- আমি তাকে ফিরিয়ে আনবাে। যদি আমি তাকে ফিরিয়ে আনি, তা হলে আমি তাকে ফিরিয়ে আনব তার পুণ্য ও গনীমতের সম্পদসহ, আর যদি আমি তাকে ওফাত দেই, তাহলে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব এবং তার প্রতি রহমত করব।
أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَثَلُ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ - وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِهِ - كَمَثَلِ الصَّائِمِ الْقَائِمِ الْخَاشِعِ الرَّاكِعِ السَّاجِدِ " .
হান্নাদ ইবন সারী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর উপমা আর কে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে, তা আল্লাহই ভাল জানেন, ঐ সিয়াম পালনকারীর ন্যায়, যে রাত জেগে ইবাদত করে, আল্লাহকে ভয় করে, রুকু করে এবং সিজদা করে।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَفَّانُ، قَالَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو حُصَيْنٍ، أَنَّ ذَكْوَانَ، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ حَدَّثَهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ يَعْدِلُ الْجِهَادَ قَالَ " لاَ أَجِدُهُ هَلْ تَسْتَطِيعُ إِذَا خَرَجَ الْمُجَاهِدُ تَدْخُلُ مَسْجِدًا فَتَقُومُ لاَ تَفْتُرُ وَتَصُومُ لاَ تُفْطِرُ " . قَالَ مَنْ يَسْتَطِيعُ ذَلِكَ
উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে আরয করলো, আমাকে এমন আমলের সন্ধান দিন-যা জিহাদের সমতুল্য হয়। তিনি বললেনঃ আমি তোমরা এমন আমল পাচ্ছি না, আচ্ছা যখন মুজাহিদ জিহাদে বের হয়, তখন তুমি কি মসজিদে প্রবেশ করে এমন ইবাদত আরম্ভ করতে সক্ষম, যাতে একটুও বিরতি দেবে না? আর লাগাতার সাওম পালন করবে, যাতে কোন বিরতি হবে না? লোকটি বললোঃ এরূপ করতে কে সক্ষম হবে?
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنِ اللَّيْثِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ، عَنْ أَبِي مُرَاوِحٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، أَنَّهُ سَأَلَ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَىُّ الْعَمَلِ خَيْرٌ قَالَ " إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল হাকাম (রহঃ) ... আবু যর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহতে ঈমান আনা এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা।
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَىُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ " إِيمَانٌ بِاللَّهِ " . قَالَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ " الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ " . قَالَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ " حَجٌّ مَبْرُورٌ " .
ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যাক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করলোঃ কোন আমল সবোত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহর উপর ঈমান আনা। সে বললোঃ তারপর কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদ করা। সে জিজ্ঞাসা করলোঃ তারপর কোনটি ? তিনি বললেনঃ হজ্জে মাবরূর বা মাককূল হজ্জ।
قَالَ الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو هَانِئٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَا أَبَا سَعِيدٍ مَنْ رَضِيَ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ " . قَالَ فَعَجِبَ لَهَا أَبُو سَعِيدٍ قَالَ أَعِدْهَا عَلَىَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَفَعَلَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَأُخْرَى يُرْفَعُ بِهَا الْعَبْدُ مِائَةَ دَرَجَةٍ فِي الْجَنَّةِ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ " . قَالَ وَمَا هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ " .
হারিস ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আবু সাঈদ! যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবী হিসেবে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেয়, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। বর্ণনাকারী বলেন, এতে আবু সাঈদ (রাঃ) আশ্চর্যবোধ করলেন। তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই বাক্য আমাকে আবার বলুন। তিনি তা করলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অন্য একটি আমল আছে, তা দ্বারা জান্নাতে বান্দার মর্যাদা একশত গুণ বৃদ্ধি করা হয়, এর প্রতি দুটি স্তরের দূরত্ব এমন- যেমন আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যকার দূরত্ব। তিনি বললেনঃ তা কি, ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বললেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।
أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بَكَّارِ بْنِ بِلاَلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ سُمَيْعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ وَاقِدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي بُسْرُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَقَامَ الصَّلاَةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَمَاتَ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يَغْفِرَ لَهُ هَاجَرَ أَوْ مَاتَ فِي مَوْلِدِهِ " . فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ نُخْبِرُ بِهَا النَّاسَ فَيَسْتَبْشِرُوا بِهَا فَقَالَ " إِنَّ لِلْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ أَعَدَّهَا اللَّهُ لِلْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِهِ وَلَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَلاَ أَجِدُ مَا أَحْمِلُهُمْ عَلَيْهِ وَلاَ تَطِيبُ أَنْفُسُهُمْ أَنْ يَتَخَلَّفُوا بَعْدِي مَا قَعَدْتُ خَلْفَ سَرِيَّةٍ وَلَوَدِدْتُ أَنِّي أُقْتَلُ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ " .
হারুন ইবন মুহাম্মদ ইবন বাককার ইবন বিলাল (রহঃ) ... আবুদ্দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি সালাত কায়িম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সে ব্যক্তিকে ক্ষমা করা আল্লাহর জন্য অবধারিত। সে হিজরত করুক অথবা স্বীয় আবাসে মৃত্যুবরণ করুক। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি লোকদের এ সংবাদ পৌঁছিয়ে দেব না, যাতে তারা সন্তুষ্ট হয়? তিনি বললেনঃ জান্নাতে একশত স্তর আছে, প্রতি দুটি স্তরে দূরত্ব যমীন ও আসমানের দূরত্বের সমান, আল্লাহ্ তা'আলা তা আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছেন। যদি মুমিনদের উপর কষ্টদায়ক না হতো, আর আমি তাদের আরোহণের জন্য সওয়ারী ব্যবস্থা করতে অপারগ না হতাম, আর আমার সাহচর্য থেকে বঞ্চিত থাকার কারণে তাদের মনোকষ্ট না হতো, তবে আমি কোন যুদ্ধ হতেই বিরত থাকতাম না। আমার ইচ্ছা হয় আমি একবার শহীদ হয়ে যাই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই।
قَالَ الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو هَانِئٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ الْجَنْبِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَنَا زَعِيمٌ - وَالزَّعِيمُ الْحَمِيلُ - لِمَنْ آمَنَ بِي وَأَسْلَمَ وَهَاجَرَ بِبَيْتٍ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ وَبِبَيْتٍ فِي وَسَطِ الْجَنَّةِ وَأَنَا زَعِيمٌ لِمَنْ آمَنَ بِي وَأَسْلَمَ وَجَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِبَيْتٍ فِي رَبَضِ الْجَنَّةِ وَبِبَيْتٍ فِي وَسَطِ الْجَنَّةِ وَبِبَيْتٍ فِي أَعْلَى غُرَفِ الْجَنَّةِ مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَلَمْ يَدَعْ لِلْخَيْرِ مَطْلَبًا وَلاَ مِنَ الشَّرِّ مَهْرَبًا يَمُوتُ حَيْثُ شَاءَ أَنْ يَمُوتَ " .
হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আমর ইবন মালিক জানবী (রহঃ) বলেন, তিনি ফাযালা ইবন উবায়দ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমি সে ব্যক্তির যামিন হলাম, যে ঈমান আনলো আমার প্রতি এবং ইসলাম গ্রহণ করলো, হিজরত করলো, এমন একটি ঘরের যা জান্নাতের বহির্ভাগে হবে, আর একটি ঘরের- যা জান্নাতের মধ্যভাগে। আর আমি যামিন হলাম ঐ ব্যক্তির জন্য, যে আমার প্রতি ঈমান আনয়ন করেছে এবং ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং জিহাদ করেছে আল্লাহর রাস্তায় এমন ঘরের- যা বেহেশতের বহিভাগে এবং একটি ঘরের- যা জান্নাতের মধ্যভাগে হবে। এবং একটি ঘরের- যা জান্নাতের কক্ষসমূহের উপরিভাগে হবে। সে সেখানে কল্যাণের সন্ধান পায়, সেখান থেকে কল্যাণ সন্ধান করবে এবং মন্দ থেকে রক্ষার জন্য যেখানে ইচ্ছা পলায়ন করবে। সে যেখানে ইচ্ছা মৃত্যুবরণ করুক, জান্নাত তার জন্য অবধারিত।
أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَقِيلٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَقِيلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ الْمُسَيَّبِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ سَبْرَةَ بْنِ أَبِي فَاكِهٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ الشَّيْطَانَ قَعَدَ لاِبْنِ آدَمَ بِأَطْرُقِهِ فَقَعَدَ لَهُ بِطَرِيقِ الإِسْلاَمِ فَقَالَ تُسْلِمُ وَتَذَرُ دِينَكَ وَدِينَ آبَائِكَ وَآبَاءِ أَبِيكَ فَعَصَاهُ فَأَسْلَمَ ثُمَّ قَعَدَ لَهُ بِطَرِيقِ الْهِجْرَةِ فَقَالَ تُهَاجِرُ وَتَدَعُ أَرْضَكَ وَسَمَاءَكَ وَإِنَّمَا مَثَلُ الْمُهَاجِرِ كَمَثَلِ الْفَرَسِ فِي الطِّوَلِ فَعَصَاهُ فَهَاجَرَ ثُمَّ قَعَدَ لَهُ بِطَرِيقِ الْجِهَادِ فَقَالَ تُجَاهِدُ فَهُوَ جَهْدُ النَّفْسِ وَالْمَالِ فَتُقَاتِلُ فَتُقْتَلُ فَتُنْكَحُ الْمَرْأَةُ وَيُقْسَمُ الْمَالُ فَعَصَاهُ فَجَاهَدَ " . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ قُتِلَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ وَإِنْ غَرِقَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ أَوْ وَقَصَتْهُ دَابَّتُهُ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ " .
ইবরাহীম ইবন ইয়াকূব (রহঃ) ... সাবরতা ইবন আবু ফাকিহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ শয়তান আদম-সন্তানের রাস্তাসমূহে বসে থাকে। সে ইসলামের পথে বসে বাধা সৃষ্টি করতে গিয়ে বলেঃ তুমি ইসলাম গ্রহণ করবে, আর তোমার দীন ও তোমার বাপ দাদার দীন এবং তোমার পিতার পূর্বপুরুষদের দীন পরিত্যাগ করবে? কিন্তু আদম সন্তান তার কথা অমান্য করে ইসলাম গ্রহণ করে। তারপর শয়তান তার হিজরতের রাস্তায় বসে বলেঃ তুমি হিজরত করবে, তোমার ভূমি ও আকাশ পরিত্যাগ করবে? মুহাজির তো একটি রশিতে আবদ্ধ ঘোড়ার ন্যায়। কিন্তু সে ব্যক্তি তার কথা। অমান্য করে হিজরত করে। এরপর শয়তান তার জিহাদের রাস্তায় বসে এবং বলেঃ তুমি কি জিহাদ করবে? এতে নিজকে এবং নিজের ধন সম্পদকে ধ্বংস করা। তুমি যুদ্ধ করে নিহত হবে, তোমার স্ত্রী অন্যের বিবাহে যাবে, তোমার সম্পদ ভাগ হবে। সে ব্যক্তি তাকে অমান্য করে জিহাদে গমন করে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে এরূপ করবে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী জান্নাত তার জন্য অবধারিত। আর যে ব্যক্তি শহীদ হয়, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর উপর অবধারিত। যদি সে ডুবে যায়, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর উপর অবধারিত। আর যদি তার সওয়ারী তাকে ফেলে দিয়ে তার গর্দান ভেঙ্গে দেয় বা মেরে ফেলে, তখনও তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর উপর অবধারিত।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَمِّي، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ حُمَيْدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ نُودِيَ فِي الْجَنَّةِ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا خَيْرٌ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلاَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلاَةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ " . فَقَالَ أَبُو
উবায়দুল্লাহ ইবন সা'দ ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ... ইবন শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত, হুমায়দ ইবন আব্দুর রহমান তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জোড়া জোড়া দান করবে, জান্নাতে তাকে ডাকা হবে, হে আব্দুল্লাহ! ইহা কল্যাণের কাজ, অতি উত্তম! যে ব্যক্তি সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাকে সালাতের দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আর যে ব্যক্তি মুজাহিদদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাকে জিহাদের দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আর যে সাদকা দানকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাকে সাদকার দরজা দিয়ে ডাকা হবে। আর যে সাওম পালনকারী হবে, তাকে সাওমের দরজা রাইয়্যান দিয়ে ডাকা হবে। আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যে ব্যক্তিকে একযোগে এ সকল দরজা দিয়ে ডাকা হবে তার কি অবস্থা হবে? এক ব্যক্তিকে কি এই সব দরজা দিয়ে ডাকা হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আর আমি আশা করি, তুমিও তাদের মধ্যে গণ্য হবে।
أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ مُرَّةَ، أَخْبَرَهُمْ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ الرَّجُلُ يُقَاتِلُ لِيُذْكَرَ وَيُقَاتِلُ لِيَغْنَمَ وَيُقَاتِلُ لِيُرَى مَكَانُهُ فَمَنْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ " مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .
ইসমাঈল ইবন মাসউদ (রহঃ) ... আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) বলেনঃ একজন বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে নিবেদন করলো, এক ব্যক্তি যুদ্ধ করে প্রসিদ্ধি লাভের জন্য, আর এক ব্যক্তি যুদ্ধ করে গনীমতের মাল লাভের জন্য, অন্যজন যুদ্ধ করে বাহাদুরী প্রকাশের জন্য; তাহলে এদের মধ্যে আল্লাহর রাস্তায় কে? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর কলেমা সমুন্নত করার জন্য লড়াই করে, সে-ই আল্লাহর রাস্তার সৈনিক।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ تَفَرَّقَ النَّاسُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، فَقَالَ لَهُ قَائِلٌ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ أَيُّهَا الشَّيْخُ حَدِّثْنِي حَدِيثًا سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ نَعَمْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَوَّلُ النَّاسِ يُقْضَى لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثَلاَثَةٌ رَجُلٌ اسْتُشْهِدَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اسْتُشْهِدْتُ . قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ قَاتَلْتَ لِيُقَالَ فُلاَنٌ جَرِيءٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ . قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعِلْمَ لِيُقَالَ عَالِمٌ وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ قَارِئٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَعْطَاهُ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ كُلِّهِ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا فَقَالَ مَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلٍ تُحِبُّ " . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَلَمْ أَفْهَمْ تُحِبُّ كَمَا أَرَدْتُ " أَنْ يُنْفَقَ فِيهَا إِلاَّ أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ . قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنْ لِيُقَالَ إِنَّهُ جَوَادٌ فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ فَأُلْقِيَ فِي النَّارِ " .
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) বলেন, লোক আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে পৃথক হওয়ার পর সিরিয়ার নাতিল নামক এক ব্যক্তি তাকে বললো, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন, এমন একটি হাদীস আমার কাছে বর্ণনা করুন । তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ লোকের মধ্যে কিয়ামতের দিন যাদের বিচার করা হবে, তারা হবে তিন শ্রেণীর লোক। প্রথমতঃ সে ব্যক্তি যে শহীদ হয়েছে তাকে আনা হবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে তার নিয়ামতসমূহ স্মরণ করাবেন; যে তা স্মরণ করবে, তাকে বলা হবে, এসব নিয়ামত ভোগ করে কি আমল করেছ? সে ব্যক্তি বলবেঃ আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য লড়াই করে শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছাে। বরং তুমি যুদ্ধ করেছিলে এই জন্য, যেন বলা হয় অমুক ব্যক্তি বাহাদুর; তোমাকে তা বলা হয়েছে। তার সম্পর্কে আদেশ করা হবে, ফলে তাকে তার মুখের উপর হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর এক ব্যক্তি ইলম শিক্ষা করেছে এবং লোকদেরকে শিক্ষা দান করেছে এবং কুরআন পাঠ করেছে, তাকে আনা হবে, তাকে তার নিয়ামতসমূহ স্মরণ করানো হবে, সে তা স্বীকার করবে, তাকে বলা হবেঃ এর জন্য তুমি কি আমল করেছ? সে বলবেঃ আমি 'ইলম শিক্ষা করেছি, অন্যকেও শিক্ষা দিয়েছি, আর তোমার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি। আল্লাহ তায়ালা বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছো। বরং তুমি শিক্ষা কব্রেছিলে এজন্য যেন তোমাকে আলিম বলা হয় । আর কুরআন শিক্ষা করেছিলে, যেন তোমাকে কারী বলা হয়; তা বলা হয়েছে। এরপর তার সম্বন্ধে আদেশ করা হবে, আর তাকে মুখের উপর হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর এক ব্যক্তি যাকে প্রশস্ততা দান করা হয়েছিল এবং তাকে সর্বপ্রকার মাল দান করা হয়েছিল। তাকে আনা হবে। তাকে তার নিয়ামত সম্বন্ধে অবহিত করা হবে, সে তা স্বীকার করবে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, এর জন্য তুমি কি আমল করেছ? সে বলবেঃ আমি তোমার পছন্দনীয় কোন রাস্তাই ছাড়িনি, তোমার সন্তুষ্টির জন্য যাতে ব্যয় করিনি। আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ তুমি মিথ্যা বলছে বরং তুমি এজন্য ব্যয় করেছ, যাতে দাতা বলা হয়; তা বলা হয়েছে। তারপর তার সম্পর্কে আদেশ করা হবে, তাকে তার মুখ নিচের দিকে করে হেঁচড়িয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ جَبَلَةَ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ غَزَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَمْ يَنْوِ إِلاَّ عِقَالاً فَلَهُ مَا نَوَى " .
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইয়াহইয়া ইবন ওলীদ ইবন উবাদা ইবন সামিত তার দাদার মাধ্যমে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করলো এবং উটের রশি ব্যতীত তার আর কিছুর নিয়্যত খাকলো না; সে যা নিয়ত করলো, তাই তার প্রাপ্য হবে।
أَخْبَرَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ جَبَلَةَ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْوَلِيدِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ غَزَا وَهُوَ لاَ يُرِيدُ إِلاَّ عِقَالاً فَلَهُ مَا نَوَى " .
হারুন ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) ... ইয়াহইয়া ইবন ওলীদ ইবন উবাদা ইবন সামিত থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করলো এবং উটের রশি ছাড়া তার আর কিছুর নিয়্যত থাকলো না; সে যা নিয়্যত করলো, তাই তার প্রাপ্য হবে।
أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ هِلاَلٍ الْحِمْصِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حِمْيَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلاَّمٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ شَدَّادٍ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَرَأَيْتَ رَجُلاً غَزَا يَلْتَمِسُ الأَجْرَ وَالذِّكْرَ مَا لَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ شَىْءَ لَهُ " . فَأَعَادَهَا ثَلاَثَ مَرَّاتٍ يَقُولُ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ شَىْءَ لَهُ " . ثُمَّ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ لاَ يَقْبَلُ مِنَ الْعَمَلِ إِلاَّ مَا كَانَ لَهُ خَالِصًا وَابْتُغِيَ بِهِ وَجْهُهُ " .
ঈসা ইন হিলাল হিমসী (রহঃ) ... আবু উমামা বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললোঃ ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে আপনি কি বলেন, যে ব্যক্তি সম্পদ এবং সুনামের জন্য জিহাদ করে, তার জন্য কি রয়েছে? রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তার জন্য কিছুই নেই। তিনি তা তিনবার বললেন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তার জন্য কিছুই নেই। তারপর তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাআলা খালেস আমল ব্যতীত, যা দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া আর কিছুই উদ্দেশ্য না হয়, আর কিছুই কবুল করেন না।
أَخْبَرَنَا يُوسُفُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ سَمِعْتُ حَجَّاجًا، أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ يُخَامِرَ، أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، حَدَّثَهُمْ أَنَّهُ، سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ فُوَاقَ نَاقَةٍ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ وَمَنْ سَأَلَ اللَّهَ الْقَتْلَ مِنْ عِنْدِ نَفْسِهِ صَادِقًا ثُمَّ مَاتَ أَوْ قُتِلَ فَلَهُ أَجْرُ شَهِيدٍ وَمَنْ جُرِحَ جُرْحًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ نُكِبَ نَكْبَةً فَإِنَّهَا تَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَغْزَرِ مَا كَانَتْ لَوْنُهَا كَالزَّعْفَرَانِ وَرِيحُهَا كَالْمِسْكِ وَمَنْ جُرِحَ جُرْحًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَعَلَيْهِ طَابَعُ الشُّهَدَاءِ " .
ইউসুফ ইন সাঈদ (রহঃ) ... মালিক ইবন ইউখামির (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় উটনীর দুধ দোহনের সময় পর্যন্ত (অর্থাৎ স্বল্প সময়ের জনা) জিহাদ করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। যে ব্যক্তি আল্লাহর তাআলার নিকট নিজেই জিহাদ কামনা করে কায়মনোবাক্যে, তারপর মৃত্যুবরণ করে অথবা নিহত হয়, তার জন্য রয়েছে একজন শহীদের সওয়াব। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় আঘাত প্রাপ্ত হয় অথবা বর্শার আঘাত পায়, কিয়ামতের দিন তা পানি পূর্ণ কৃপের ন্যায় হবে, যার রং হবে যাফরানের এবং গন্ধ হবে কস্তুরীর। আর যে আল্লাহর রাস্তায় জখমী হয়, তার উপর শহীদের চিহ্ন থাকবে।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ صَفْوَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي سُلَيْمُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ السِّمْطِ، أَنَّهُ قَالَ لِعَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ يَا عَمْرُو حَدِّثْنَا حَدِيثًا، سَمِعْتَهُ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ شَابَ شَيْبَةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى كَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى بَلَغَ الْعَدُوَّ أَوَلَمْ يَبْلُغْ كَانَ لَهُ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ وَمَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةً مُؤْمِنَةً كَانَتْ لَهُ فِدَاءَهُ مِنَ النَّارِ عُضْوًا بِعُضْوٍ " .
আমর ইবন উছমান ইবন সায়ীদ ইবন কাছীর (রহঃ) ... শুরাহবীল ইবন সিমত (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আমর ইবন আবাসা (রাঃ)-কে বললেন, হে আমর! আমাদের কাছে একটি হাদীস বর্ণনা করুন, যা আপনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে বৃদ্ধ হবে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য একটি নূর হবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একটি তীর নিক্ষেপ করবে, তা শক্রর গায়ে বিদ্ধ হোক বা না হোক, তার জন্য একটি গোলাম আযাদ চরার ন্যায় সওয়াব লিখিত হবে। আর যে ব্যক্তি একজন মুমিন গোলাম আযাদ করবে, তা তার জন্য জাহান্নাম হতে পবিত্রাণের কারণ হবে, প্রত্যেক অঙ্গের পরিবর্তে এক একটি অঙ্গ।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي نَجِيحٍ السُّلَمِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ بَلَغَ بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ لَهُ دَرَجَةٌ فِي الْجَنَّةِ " . فَبَلَّغْتُ يَوْمَئِذٍ سِتَّةَ عَشَرَ سَهْمًا . قَالَ وَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ عِدْلُ مُحَرَّرٍ " .
মুহাম্মাদ ইবন আবদুল আ'লা (রহঃ) ... আবু নুজাইহ সালামী (আমর ইবন আবাসা) (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কাফিরদের দিকে একটি তীর নিক্ষেপ করলো, এটি তার জন্য জান্নাতে একটি স্তর লাভের কারণ হবে। অতএব আমি সেদিন ষোলটি তীর নিক্ষেপ করি। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আরও বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একটি তীর ছুঁড়বে, তা হবে গোলাম আযাদ করার সমতুল্য।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ السِّمْطِ، قَالَ لِكَعْبِ بْنِ مُرَّةَ يَا كَعْبُ حَدِّثْنَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاحْذَرْ . قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ " مَنْ شَابَ شَيْبَةً فِي الإِسْلاَمِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . قَالَ لَهُ حَدِّثْنَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَاحْذَرْ . قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ " ارْمُوا مَنْ بَلَغَ الْعَدُوَّ بِسَهْمٍ رَفَعَهُ اللَّهُ بِهِ دَرَجَةً " . قَالَ ابْنُ النَّحَّامِ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الدَّرَجَةُ قَالَ " أَمَا إِنَّهَا لَيْسَتْ بِعَتَبَةِ أُمِّكَ وَلَكِنْ مَا بَيْنَ الدَّرَجَتَيْنِ مِائَةُ عَامٍ " .
মুহাম্মদ ইবন আলা (রহঃ) ... শুরাহবীল ইবন সিমত (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি কা'ব ইবন মুররাহ (রাঃ)-কে বললেনঃ হে কাব! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করুন এবং সাবধানতা অবলম্বন করুন। তিনি বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি মুসলিম অবস্থায় আল্লাহর রাস্তায় বৃদ্ধ হয়েছে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য নূর হবে। তাঁকে আবার বলা হলোঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করুন এবং সাবধানতা অবলম্বন করুন। তিনি বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ তোমরা তীর নিক্ষেপ করবে। যে ব্যক্তি শত্রুর প্রতি একটি তীর নিক্ষেপ করেছে, আল্লাহ তা'আলা এর বিনিময়ে তার একটি স্তর বর্ধিত করবেন। ইবন নাহহাম (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! মর্যাদা কিরূপ? তিনি বললেনঃ তা তোমার মায়ের ঘরের চৌকাঠ নয়। ইহা এমন দুটি স্তর যে, যার মধ্যে পার্থক্য হবে একশত বছরের।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ خَالِدًا، - يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الشَّامِيَّ - يُحَدِّثُ عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ السِّمْطِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ، قَالَ قُلْتُ يَا عَمْرُو بْنَ عَبَسَةَ حَدِّثْنَا حَدِيثًا، سَمِعْتَهُ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْسَ فِيهِ نِسْيَانٌ وَلاَ تَنَقُّصٌ . قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَلَغَ الْعَدُوَّ أَخْطَأَ أَوْ أَصَابَ كَانَ لَهُ كَعِدْلِ رَقَبَةٍ وَمَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةً مُسْلِمَةً كَانَ فِدَاءُ كُلِّ عُضْوٍ مِنْهُ عُضْوًا مِنْهُ مِنْ نَارِ جَهَنَّمَ وَمَنْ شَابَ شَيْبَةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .
মুহাম্মদ ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... শুরাহবীল ইবন সিমত (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে অমর ইবন আবাসা! আমাদের নিকট এমন হাদীস বর্ণনা করুন, যা আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শ্রবণ করেছেন, যাতে ভুল ভ্রান্তি ও পরিবর্তন না হয়। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একটি তীর নিক্ষেপ করবে শক্রর প্রতি, এতে সে ভুল করলো কিংবা সঠিকভাবে পৌঁছালো, এটি তার জন্য একটি কৃতদাস আযাদ করার সমতুল্য হবে। আর যে ব্যক্তি একজন মুসলিম কৃতদাস আযাদ করবে, তার প্রত্যেকটি অঙ্গ এর প্রত্যেক অঙ্গের পরিবর্তে জাহান্নামের অগ্নি হতে পবিত্রাণ পাবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় বার্ধক্যে উপনীত হবে, কিয়ামতের দিন এ হবে তার জন্য নূর।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ، عَنِ ابْنِ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي سَلاَّمٍ الأَسْوَدِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُدْخِلُ ثَلاَثَةَ نَفَرٍ الْجَنَّةَ بِالسَّهْمِ الْوَاحِدِ صَانِعَهُ يَحْتَسِبُ فِي صُنْعِهِ الْخَيْرَ وَالرَّامِيَ بِهِ وَمُنَبِّلَهُ " .
আমর ইবন উছমান ইবন সায়ীদ (রহঃ) ... উকবা ইবন আমির (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা একটি তীরের উসিলায় তিন প্রকার ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। এর প্রস্তুতকারক, যে তা প্রস্তুতকালে উত্তম নিয়্যত রাখবে, যে তা নিক্ষেপ করবে এবং যে তা কাউকে নিক্ষেপ করতে দেবে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يُكْلَمُ أَحَدٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ - وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُكْلَمُ فِي سَبِيلِهِ - إِلاَّ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَجُرْحُهُ يَثْعَبُ دَمًا اللَّوْنُ لَوْنُ دَمٍ وَالرِّيحُ رِيحُ الْمِسْكِ " .
মুহাম্মদ ইবন মনসূর (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যখম হবে, আল্লাহই ভাল জানেন, কে তাঁর রাস্তায় যখম হয়েছে; সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় আসবে যে, তার ক্ষত হতে রক্ত ঝরাতে থাকবে, এর বর্ণ হবে রক্তের ন্যায়, আর গন্ধ হবে কস্তুরীর মত।
أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ثَعْلَبَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " زَمِّلُوهُمْ بِدِمَائِهِمْ فَإِنَّهُ لَيْسَ كَلْمٌ يُكْلَمُ فِي اللَّهِ إِلاَّ أَتَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ جُرْحُهُ يَدْمَى لَوْنُهُ لَوْنُ دَمٍ وَرِيحُهُ رِيحُ الْمِسْكِ " .
হান্নাদ ইবন সারি (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন ছা'লাবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাদেরকে (শহীদদেরকে) তাদের রক্তসহ চাদরাবৃত কর। কেননা কেউ আল্লাহর রাস্তায় যখম হলে, সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার ক্ষত হতে রক্ত নির্গত হতে থাকবে। যার বর্ণ হবে রক্তের, কিন্তু সুগন্ধী হবে কস্তুরীর ন্যায়।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَذَكَرَ، آخَرَ قَبْلَهُ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ وَوَلَّى النَّاسُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نَاحِيَةٍ فِي اثْنَىْ عَشَرَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ وَفِيهِمْ طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ فَأَدْرَكَهُمُ الْمُشْرِكُونَ فَالْتَفَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " مَنْ لِلْقَوْمِ " . فَقَالَ طَلْحَةُ أَنَا . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَمَا أَنْتَ " . فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ " أَنْتَ " . فَقَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ ثُمَّ الْتَفَتَ فَإِذَا الْمُشْرِكُونَ فَقَالَ " مَنْ لِلْقَوْمِ " . فَقَالَ طَلْحَةُ أَنَا . قَالَ " كَمَا أَنْتَ " . فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ أَنَا . فَقَالَ " أَنْتَ " . فَقَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ ثُمَّ لَمْ يَزَلْ يَقُولُ ذَلِكَ وَيَخْرُجُ إِلَيْهِمْ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَيُقَاتِلُ قِتَالَ مَنْ قَبْلَهُ حَتَّى يُقْتَلَ حَتَّى بَقِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَطَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ لِلْقَوْمِ " . فَقَالَ طَلْحَةُ أَنَا . فَقَاتَلَ طَلْحَةُ قِتَالَ الأَحَدَ عَشَرَ حَتَّى ضُرِبَتْ يَدُهُ فَقُطِعَتْ أَصَابِعُهُ فَقَالَ حَسِّ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ قُلْتَ بِسْمِ اللَّهِ لَرَفَعَتْكَ الْمَلاَئِكَةُ وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ " . ثُمَّ رَدَّ اللَّهُ الْمُشْرِكِينَ .
আমর ইবন সওয়াদ (রহঃ) ... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, ওহুদ যুদ্ধের দিন যখন কিছু লোক ফিরে গেল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিকে বারজন আনসার কর্তৃক বেষ্টিত ছিলেন, তাদের মধ্যে তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ (রাঃ)-ও ছিলেন, মুশরিকরা তাদেরকে আক্রমণ করলো, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে বললেনঃ এদলের জন্য কে আছ? তালহা (রাঃ) বললেনঃ আমি। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি পূর্বে যেমন ছিলে সেরূপ থাক। তখনই একজন আনসারী ব্যক্তি বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ তুমিও। এ ব্যক্তি যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হলেন। আবার তিনি লক্ষ্য করলেন, এবং দেখতে পেলেন যে, মুশরিকরা আক্রমণ করছে, তিনি বললেনঃ এদলের জন্য কে আছ? এবারও তালহা (রাঃ) বললেনঃ আমি। তিনি বললেনঃ তুমি পূর্বের মতই থাক। এক আনসারী ব্যক্তি বললেনঃ আমি আছি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ হ্যাঁ তুমিও। এ ব্যক্তিও যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হলেন। এরপর তিনি এভাবে বলছিলেন এবং তার পূর্ববর্তীদের ন্যায় যুদ্ধ করছিলেন এবং শহীদ হলেন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ (রাঃ) অবশিষ্ট থাকলেন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এদলের জন্য কে আছ? তালহা (রাঃ) বললেনঃ আমি আছি। তিনি এগারজনের যুদ্ধ একাই করলেন। পরিশেষে তার হাত আহত হলো এবং হাতের আঙ্গুল কর্তিত হালো। এতে তিনি উহ্ শব্দের ন্যায় শব্দ উচ্চারণ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তুমি বলতে ‘বিসমিল্লাহ', তা হলে তোমাকে ফিরিশতাগণ উপরে উঠিয়ে নিতেন, আর লোকেরা তা দেখতে পেতেন। এরপর আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের ফিরিয়ে দিলেন।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ، وَعَبْدُ اللَّهِ، ابْنَا كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ سَلَمَةَ بْنَ الأَكْوَعِ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ خَيْبَرَ قَاتَلَ أَخِي قِتَالاً شَدِيدًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَارْتَدَّ عَلَيْهِ سَيْفُهُ فَقَتَلَهُ فَقَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ وَشَكُّوا فِيهِ رَجُلٌ مَاتَ بِسِلاَحِهِ قَالَ سَلَمَةُ فَقَفَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ خَيْبَرَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَأْذَنُ لِي أَنْ أَرْتَجِزَ بِكَ فَأَذِنَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضى الله عنه اعْلَمْ مَا تَقُولُ فَقُلْتُ وَاللَّهِ لَوْلاَ اللَّهُ مَا اهْتَدَيْنَا وَلاَ تَصَدَّقْنَا وَلاَ صَلَّيْنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صَدَقْتَ " . فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا وَثَبِّتِ الأَقْدَامَ إِنْ لاَقَيْنَا وَالْمُشْرِكُونَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا فَلَمَّا قَضَيْتُ رَجَزِيَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَالَ هَذَا " . قُلْتُ أَخِي . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَرْحَمُهُ اللَّهُ " . فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ إِنَّ نَاسًا لَيَهَابُونَ الصَّلاَةَ عَلَيْهِ يَقُولُونَ رَجُلٌ مَاتَ بِسِلاَحِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَاتَ جَاهِدًا مُجَاهِدًا " . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ ثُمَّ سَأَلْتُ ابْنًا لِسَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ فَحَدَّثَنِي عَنْ أَبِيهِ مِثْلَ ذَلِكَ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ حِينَ قُلْتُ إِنَّ نَاسًا لَيَهَابُونَ الصَّلاَةَ عَلَيْهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَذَبُوا مَاتَ جَاهِدًا مُجَاهِدًا فَلَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ " . وَأَشَارَ بِأُصْبُعَيْهِ .
আমর ইবন সওয়াদ (রহঃ) ... সালামা ইবন আকওয়া (রাঃ) বলেন, খায়বর যুদ্ধে আমার ভাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নেতৃত্বে ভীষণ যুদ্ধ করেন। তাঁর তরবারী তার উপর আপতিত হলে তিনি শহীদ হন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবা এ সম্পর্কে মন্তব্য করতে লাগলেন এবং তার শাহাদাত সম্পর্কে সন্দেহ পােষণ করতে লাগলেন। কারণ তিনি এমন এক ব্যক্তি, যার মৃত্যু হয়েছে তারই অস্ত্রে। সালামা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বর হতে প্রত্যাবর্তন করার পর আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার কাছে কবিতা পাঠ করতে আমাকে অনুমতি দিবেন কি? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন। তখন উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বললেন, তুমি কি বলবে তা অনুধাবন কর। আমি বললামঃ وَاللَّهِ لَوْلَا اللَّهُ مَا اهْتَدَيْنَا وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا অর্থাৎ আল্লাহর কসম! আল্লাহ যদি আমাদের হিদায়ত না করতেন, তাহলে না আমরা হিদায়ত পেতাম, না আমরা সাদাকা করতাম, আর না আমরা সালাত আদায় করতাম। এপর্যন্ত বলতেই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি সত্যই বলেছ। فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا وَثَبِّتْ الْأَقْدَامَ إِنْ لَاقَيْنَا وَالْمُشْرِكُونَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا তিনি আমদের উপর শান্তি অবতীর্ণ করুন, আর যুদ্ধ ক্ষেত্রে আমাদের অটল রাখুন। মুশরিকরা 'আমাদের উপর অত্যাচার করেছে। আমার কবিতা পাঠ শেষ হলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা কে বলেছে? আমি বললামঃ আমার ভাই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ তাকে রহম করুন। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! লোক তার উপর জানাযার নামায পড়তে ভয় পায়। তারা বলে, এ ব্যক্তি স্বীয় অস্ত্রে মারা গেছে। সে পুণ্যের পথে অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে আল্লাহর শত্রুদের মুকাবিলায় জিহাদ করতে করতে শহীদ হয়েছে। ইবন শিহাব (রহঃ) বলেন, তারপর আমি সালামা ইবন আকওয়ার এক ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি তার পিতা হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। উপরন্তু তিনি বললেন, যখন আমি বললাম, লোক তার উপর নামায পড়তে দ্বিধাবোধ করছে। তখন রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা মিথ্যা বলছে। সে মুজাহিদের ন্যায় যুদ্ধ করেছে, তার জন্য দুইগুণ পুণ্য রয়েছে। আর তিনি তাঁর দুটি আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলেন।
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ الْقَطَّانَ - عَنْ يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيَّ - قَالَ حَدَّثَنِي ذَكْوَانُ أَبُو صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَمْ أَتَخَلَّفْ عَنْ سَرِيَّةٍ وَلَكِنْ لاَ يَجِدُونَ حَمُولَةً وَلاَ أَجِدُ مَا أَحْمِلُهُمْ عَلَيْهِ وَيَشُقُّ عَلَيْهِمْ أَنْ يَتَخَلَّفُوا عَنِّي وَلَوَدِدْتُ أَنِّي قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ أُحْيِيتُ ثُمَّ قُتِلْتُ ثُمَّ أُحْيِيتُ ثُمَّ قُتِلْتُ " . ثَلاَثًا .
উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টসাধ্য না হতো, তাহলে আমি কোন যুদ্ধে গমন হতে বিরত থাকতাম না। তারা কোন বাহন পায় না, আর আমিও তাদের জন্য বাহনের ব্যবস্থা করতে পারি না। আর যদি আমার সঙ্গে যাওয়া হতে বিরত থাকা তাদের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, পুনরায় জীবিত হই, পুনরায় শহীদ হই। তিনি তিনবার এরূপ বললেন।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْلاَ أَنَّ رِجَالاً مِنَ الْمُؤْمِنِينَ لاَ تَطِيبُ أَنْفُسُهُمْ بِأَنْ يَتَخَلَّفُوا عَنِّي وَلاَ أَجِدُ مَا أَحْمِلُهُمْ عَلَيْهِ مَا تَخَلَّفْتُ عَنْ سَرِيَّةٍ تَغْزُو فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوَدِدْتُ أَنِّي أُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ ثُمَّ أُحْيَا ثُمَّ أُقْتَلُ " .
আমর ইবন উছমান ইবন সায়ীদ (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিছ সে সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, যদি মু'মিনদের মধ্যে এমন লোক না হতো, যারা আমার সঙ্গে যুদ্ধে গমন হতে বিরত থাকতে চায় না, আর আমি তাদের জন্য সওয়ারীর ব্যবস্থাও করতে পারি না, তাহলে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করা হতে আমি বিরত থাকতাম না। সে সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ! আমার ইচ্ছা হয়- আমি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে যাই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই।
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَمِيرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا مِنَ النَّاسِ مِنْ نَفْسٍ مُسْلِمَةٍ يَقْبِضُهَا رَبُّهَا تُحِبُّ أَنْ تَرْجِعَ إِلَيْكُمْ وَأَنَّ لَهَا الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا غَيْرُ الشَّهِيدِ " . قَالَ ابْنُ أَبِي عَمِيرَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَلأَنْ أُقْتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ يَكُونَ لِي أَهْلُ الْوَبَرِ وَالْمَدَرِ " .
আমর ইবন উছমান (রহঃ) ... ইবন আবু আমীরাতা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যাকে আল্লাহ মৃত্যুদান করেছেন, আর সে পুনরায় তোমাদের নিকট প্রত্যাবর্তন করতে ভালবাসে-শহীদ ব্যতীত; অথচ তার জন্য পৃথিবী এবং পৃথিবীস্থ সব কিছুই রয়েছে। ইবন আবু আমীরাতা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন শহরবাসী এবং গ্রামবাসী (অর্থাৎ পৃথিবী ও তন্মধ্যস্থিত যা আছে সব কিছু) আমার জন্য হোক, তা হতে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়া আমার নিকট অধিক প্রিয়।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرًا، يَقُولُ قَالَ رَجُلٌ يَوْمَ أُحُدٍ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَأَيْنَ أَنَا قَالَ " فِي الْجَنَّةِ " . فَأَلْقَى تَمَرَاتٍ فِي يَدِهِ ثُمَّ قَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ .
মুহাম্মদ ইবন মানসূর (রহঃ) ... আমর (রহঃ) বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ওহুদ যুদ্ধের দিন এক ব্যক্তি বললো, আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে যাই, তাহলে আমার স্থান কোথায় হবে তা আমাকে বলুন। তিনি বলেন, জান্নাতে। তারপর সে ব্যক্তি তার হস্তস্থিত খেজুর ফেলে দিয়ে যুদ্ধে যোগদান করলো এবং শহীদ হয়ে গেল।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَخْطُبُ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ قَاتَلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلاً غَيْرَ مُدْبِرٍ أَيُكَفِّرُ اللَّهُ عَنِّي سَيِّئَاتِي قَالَ " نَعَمْ " . ثُمَّ سَكَتَ سَاعَةً قَالَ " أَيْنَ السَّائِلُ آنِفًا " . فَقَالَ الرَّجُلُ هَا أَنَا ذَا . قَالَ " مَا قُلْتَ " . قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلاً غَيْرَ مُدْبِرٍ أَيُكَفِّرُ اللَّهُ عَنِّي سَيِّئَاتِي قَالَ " نَعَمْ إِلاَّ الدَّيْنَ سَارَّنِي بِهِ جِبْرِيلُ آنِفًا " .
মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে উপবেশন করে খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললোঃ আমি যদি ধৈর্যশীল হয়ে সওয়াবের নিয়তে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হই, পিছপা না হই, তাহলে কি আল্লাহ তাআলা আমরা সব পাপ মার্জনা করবেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তারপর তিনি কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকলেন, পরে বললেনঃ প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়? লোকটি বললোঃ এই যে, আমি এখানে। তিনি বললেনঃ তুমি কি বলেছিলে? সে বললোঃ আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় ধৈর্যসহকারে ইখলাসের সংগে সম্মুখে অগ্রসর হয়ে যুদ্ধ করি, পিছু না হটি- সওয়াবের আশা রাখি, তাহলে কি আমার পাপসমূহ আল্লাহ ক্ষমা করবেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, ঋণ ব্যতীত। এইমাত্র জিবরীল (আঃ) আমাকে তা বলে গেলেন আমার কানে কানে।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلاً غَيْرَ مُدْبِرٍ أَيُكَفِّرُ اللَّهُ عَنِّي خَطَايَاىَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " . فَلَمَّا وَلَّى الرَّجُلُ نَادَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ أَمَرَ بِهِ فَنُودِيَ لَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَيْفَ قُلْتَ " . فَأَعَادَ عَلَيْهِ قَوْلَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ إِلاَّ الدَّيْنَ كَذَلِكَ قَالَ لِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ " .
মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আবু কাতাদা (তার পিতা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ আমি যদি ধৈর্যের সাথে সওয়াবের নিয়তে সামনে অগ্রসর হয়ে, পিছু না হটে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করি, তাহলে কি আল্লাহ আমার সব পাপ ক্ষমা করে দিবেন? রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। যখন সে ব্যক্তি প্রস্থান করলো, তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাকলেন অথবা ডাকতে বললেন। তাকে ডাকা হলো, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি বললে? লোকটি তার বক্তব্য তার নিকট পুনরায় ব্যক্ত করলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, তবে ঋণ ব্যতীত; জিবরীল (আঃ) আমাকে এরূপ বললেন।
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يُحَدِّثُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَامَ فِيهِمْ فَذَكَرَ لَهُمْ " أَنَّ الْجِهَادَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالإِيمَانَ بِاللَّهِ أَفْضَلُ الأَعْمَالِ " . فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَيُكَفِّرُ اللَّهُ عَنِّي خَطَايَاىَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ إِنْ قُتِلْتَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَنْتَ صَابِرٌ مُحْتَسِبٌ مُقْبِلٌ غَيْرُ مُدْبِرٍ إِلاَّ الدَّيْنَ فَإِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ لِي ذَلِكَ " .
কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মধ্যে দাঁড়িয়ে তাদের বললেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান সর্বোত্তম ইবাদত। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, তাহলে কি আল্লাহ তাআলা আমার সব পাপ মার্জনা করবেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। যদি তুমি ধৈর্যসহকারে সওয়াবের আশায় সামনে অগ্রসর হয়ে পিছু না হটে যুদ্ধ কর, তবে ঋণ ব্যতীত। জিবরীল (আঃ) আমাকে এরূপ বললেন।
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، سَمِعَ مُحَمَّدَ بْنَ قَيْسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ ضَرَبْتُ بِسَيْفِي فِي سَبِيلِ اللَّهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلاً غَيْرَ مُدْبِرٍ حَتَّى أُقْتَلَ أَيُكَفِّرُ اللَّهُ عَنِّي خَطَايَاىَ قَالَ " نَعَمْ " . فَلَمَّا أَدْبَرَ دَعَاهُ فَقَالَ " هَذَا جِبْرِيلُ يَقُولُ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ عَلَيْكَ دَيْنٌ " .
আব্দুল জব্বার ইবন আ'লা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন 'আবু কাতাদা তার পিতা কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর থাকাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি আমার এ তলোয়ার দিয়ে ধৈর্যসহকারে সওয়াবের নিয়তে সামনে অগ্রসর হয়ে পিছু না হটে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে শহীদ হই; তাহলে কি আমার পাপসমূহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি চলে গেলে তাকে ডেকে বললেনঃ ইনি হলেন জিবরীল, তিনি বলছেন- তোমার উপর ঋণ থাকলে তা ব্যতীত।
أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بَكَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، - وَهُوَ ابْنُ الْقَاسِمِ بْنِ سُمَيْعٍ - قَالَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ وَاقِدٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ، أَنَّ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ، حَدَّثَهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا عَلَى الأَرْضِ مِنْ نَفْسٍ تَمُوتُ وَلَهَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ تُحِبُّ أَنْ تَرْجِعَ إِلَيْكُمْ وَلَهَا الدُّنْيَا إِلاَّ الْقَتِيلُ فَإِنَّهُ يُحِبُّ أَنْ يَرْجِعَ فَيُقْتَلَ مَرَّةً أُخْرَى " .
হারুন ইবন মুহাম্মদ ইবন বাশার (রহঃ) ... কাছীর ইবন মুররা (রহঃ) বলেন, উবাদা ইবন সামিত (রাঃ) তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পৃথিবীতে এমন কোন লোক নেই, মৃত্যুবরণ করার পর তার জন্য আল্লাহর নিকট উত্তম অবস্থা হওয়া সত্ত্বেও, তার জন্য পৃথিবী সব কিছু হওয়া সত্ত্বেও সে তোমাদের নিকট প্রত্যাবর্তনের আকাক্সক্ষা করবে-শহীদ ব্যতীত। কেননা, সে প্রত্যাবর্তন করে পুনরায় শহীদ হতে পছন্দ করবে।
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا بَهْزٌ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُؤْتَى بِالرَّجُلِ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَا ابْنَ آدَمَ كَيْفَ وَجَدْتَ مَنْزِلَكَ فَيَقُولُ أَىْ رَبِّ خَيْرَ مَنْزِلٍ . فَيَقُولُ سَلْ وَتَمَنَّ فَيَقُولُ أَسْأَلُكَ أَنْ تَرُدَّنِي إِلَى الدُّنْيَا فَأُقْتَلَ فِي سَبِيلِكَ عَشْرَ مَرَّاتٍ لِمَا يَرَى مِنْ فَضْلِ الشَّهَادَةِ " .
আবু বকর ইবন নাফি (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতীদের মধ্যে শহীদকে আনা হলে আল্লাহ তা'আলা তাকে জিজ্ঞাসা করবেনঃ হে আদম সন্তান! তোমার বাসস্থান কেমন পেলে? সে বলবে, ইয়া আল্লাহ! সর্বোত্তম স্থান। তিনি বললেনঃ আরও কিছু চাও এবং আকাক্সক্ষা কর। তখন সে ব্যক্তি বলবেঃ হে আল্লাহ! আমি চাই, আপনি আমাকে পুনরায় পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিন। আমি আপনার রাস্তায় দশবার শহীদ হই। কেননা সে শাহাদাতের মর্যাদা দেখেছে।
أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الشَّهِيدُ لاَ يَجِدُ مَسَّ الْقَتْلِ إِلاَّ كَمَا يَجِدُ أَحَدُكُمُ الْقَرْصَةَ يُقْرَصُهَا " .
ইমরান ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শহীদ ব্যক্তি নিহত হওয়ার কষ্ট পিপীলিকার কামড় অথবা চিমটি কাটার কষ্টের চাইতে বেশী অনুভব করবে না।
أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شُرَيْحٍ، أَنَّ سَهْلَ بْنَ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ سَأَلَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ الشَّهَادَةَ بِصِدْقٍ بَلَّغَهُ اللَّهُ مَنَازِلَ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ مَاتَ عَلَى فِرَاشِهِ " .
ইউনুস ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) ... সাহল ইবন আবু উমামা ইবন সাহল ইবন হানীফ তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার কাছে শাহাদাত কামনা করবে সর্বান্তকরণে, সে তার বিছানায় মৃত্যুবরণ করলেও আল্লাহ তাআলা তাকে শহীদের মর্যাদা দান করবেন।
أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شُرَيْحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ثَعْلَبَةَ الْحَضْرَمِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ حُجَيْرَةَ، يُخْبِرُ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خَمْسٌ مَنْ قُبِضَ فِي شَىْءٍ مِنْهُنَّ فَهُوَ شَهِيدٌ الْمَقْتُولُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ شَهِيدٌ وَالْغَرِقُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ شَهِيدٌ وَالْمَبْطُونُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ شَهِيدٌ وَالْمَطْعُونُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ شَهِيدٌ وَالنُّفَسَاءُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ شَهِيدٌ " .
ইউনুস ইবন আব্দুল আ'লা (রহঃ) .... উকবা ইবন আমির (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পাঁচ প্রকারের যে কোন এক প্রকারে মৃত্যুবরণ করবে- সে শহীদঃ আল্লাহর রাস্তায় নিহত ব্যক্তি শহীদ, আল্লাহর রাস্তায় যে ব্যক্তি নদী ইত্যাদিতে ডুবে মরেছে—সে শহীদ, যে আল্লাহর রাস্তায় পেটের পীড়ায় মরেছে-সে শহীদ, যে ব্যক্তি প্লেগ বা তাউন রোগে মারা যায়-সে শহীদ, আর যে স্ত্রীলোক সন্তান প্রসবের সময় মৃত্যুবরণ করে-সেও শহীদ।
أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، قَالَ حَدَّثَنَا بَحِيرٌ، عَنْ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي بِلاَلٍ، عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَخْتَصِمُ الشُّهَدَاءُ وَالْمُتَوَفَّوْنَ عَلَى فُرُشِهِمْ إِلَى رَبِّنَا فِي الَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنَ الطَّاعُونِ فَيَقُولُ الشُّهَدَاءُ إِخْوَانُنَا قُتِلُوا كَمَا قُتِلْنَا . وَيَقُولُ الْمُتَوَفَّوْنَ عَلَى فُرُشِهِمْ إِخْوَانُنَا مَاتُوا عَلَى فُرُشِهِمْ كَمَا مُتْنَا فَيَقُولُ رَبُّنَا انْظُرُوا إِلَى جِرَاحِهِمْ فَإِنْ أَشْبَهَ جِرَاحُهُمْ جِرَاحَ الْمَقْتُولِينَ فَإِنَّهُمْ مِنْهُمْ وَمَعَهُمْ فَإِذَا جِرَاحُهُمْ قَدْ أَشْبَهَتْ جِرَاحَهُمْ " .
আমর ইবন উসমান (রহঃ) ... ইবরায ইবন সারিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শহীদগণ এবং যারা বিছানায় স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছে, তারা আমাদের রবের নিকট বাদানুবাদ করবে-তাউন রোগে মারা গেছে তার সম্বন্ধে। শহীদগণ বলবেন, আমাদের এ ভাইয়েরা নিহত হয়েছেন, যেভাবে আমরা নিহত হয়েছি। আর বিছানায় মৃত্যুবরণকারীগণ বলবেন আমাদের এ ভাইয়েরা তাদের মৃত্যুবরণ করেছে, যেমন আমরা মৃত্যুবরণ করেছি। তখন আমাদের রব বলবেনঃ তাদের যখমের প্রতি লক্ষ্য কর, যদি তাদের যখম শহীদদের ক্ষতের সদৃশ হয়, তাহলে তারা তাদের মধ্যে হবে এবং তাদের সাথে থাকবে, তখন দেখা যাবে তাদের ক্ষত শহীদের ক্ষতের সদৃশ।